মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বাজিতপুরের নামকরণ/জন্মকথা

বাজিতপুর একটি  ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ । প্রাচীন কালের ইতিহাস থেকে জানা যায়, বহূকাল পূর্বে এ অঞ্চলটি খাল-বিল, হাওড়ের গভীর জলে নিমজ্জিত ও জঙ্গলে পরির্পূর্ণ একটি দুর্গম এলাকা ছিল । হাওড় অঞ্চল এখান থেকেই শুরু হয়েছে । তাই বাজিতপুর ভাটি অঞ্চলের প্রবেশদ্বার (Gate way of  the Eastern Zone) নামে জেলাবাসীর কাছে সুপরিচিত ।  কালের স্রোতে পলি পড়ে ও প্রাকৃতিক বিবর্তনে যে সমস্ত ভূ-ভাগ জলগর্ভ থেকে উত্থিত হয় তার একটি বাজিতপুর ও তৎপার্শ্ববর্তী  অঞ্চল ।

নামকরণ

বাজিতপুর নামের উৎপত্তি সম্বন্ধে দু’টি জনশ্রুতি আছে । এর মধ্যে প্রথমটি হলো মুঘল আমলে বায়েজিদ খাঁ নামক জনৈক রাজ    কর্মচারী তার অপর তিন  ভাতা ভাগল খাঁ, পৈলন খাঁ ও দেলোয়ার খাঁ সহ দিল্লী থেকে এসে এখানে অবস্থান করেন । কিছুদিন পর তারা বাজিতপুর এর আশেপাশে ৪টি স্থানে তাদের স্ব-স্ব বাসস্থান ঠিক করে নেওয়ার পর বায়েজিদ খাঁর বায়েজিদ খাঁর বাসস্থানের নামে বায়েজিদপুর, পরে উচ্চারণ বিবর্তনে তা হয় বাজিতপুর । এইরূপে পৈলান খাঁর নামে পৈলানপুর  এবং ভাগল খাঁর নামে ভাগলপুর ও দেলোয়ার খাঁর নামে দিলালপুর বলে পরিচিতি লাভ করে ।

 

দ্বিতীয় প্রকার জনশ্রুতিতে আছে বায়েজিদ খাঁ নামক মুঘল সেনাপতিকে নাকি প্রেরণ করা হয়েছিল হাওড় অঞ্চলে ঈশা খাঁর অগ্রগতিকে রোধ করার জন্য । ঈশা খাঁ তখন অবস্থান নেন হাওড় এলাকার নদী পরিবেষ্টিত ঘাগরা অঞ্চলে, তখন বায়েজিদ খাঁ অবস্থান নেন ঘোড়াউত্রা  নদী হতে দুই মাইল পশ্চিমে বর্তমান বাজিতপুরে । তবে তিনি ঈশা খাঁর সাথে কখনও কোন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন কিনা কিংবা হলেও যুদ্ধের ফলাফল  কি হয়েছিল সে সম্বন্ধে কোন বিস্তারিত ইতিহাস না থাকায় এটি তেমন বিম্বাস বা সমর্থনযোগ্য বলে মনে হয় না । আর তাছাড়া এখানে তাঁর স্থায়ীভাবে বসবাসের কোন নিদর্শন পাওয়া যায় না । অস্থায়ী বাসস্থানকে প্রথমে বায়েজিদপুর, পরে বাজিতপুর নামে ডাকা শুরু হতে পারে । তবে প্রথম জনশ্রুতিটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় ।

ছবি


সংযুক্তি